Movie Review: The Whistleblower

What an individual can do against a highly organised crime? Where the perpetrators involved are highly influential and have strong camouflages to protect them, what an individual can do? Maybe he or she can do nothing noticably, but what he or she can do is blowing whistle. At least people would hear him or her. It may not bring the perpetrators concerned into justice, but surely it can reduce the crime. As a side-effect he or she may loss his or her job.

whistleblower

When the criminals have diplomatic immunity, can they use it to ensure their impunity? The answer is, if they are not checked and balanced, if they are not monitored properly, if transparency is not ensured, it can be so.

Similar things happened when a war broke-out due to racial hatred in Bosnia-Herzegovina. After the war, the UN troops took over the country to restore peace. But peacekeepers also are human-being, they also have some weak-points. They got involved in forced prostitution, sex-slavery and astonishingly sex-trafficking. The total event is discovered by Kathrin Bolkovac an American Police official, who his so dedicated to her profession, that consequently she got divorced and lost custody of her children. She was helped by another enthusiastic right activist Madeleine Rees, who apparently failed to back her up.

Consequently, Kathrin Bolkovac was put under pressure to give up the investigation which will expose a heinous scandal and finally got dismissed illegally. However, she did not stop and continued whistleblowing.

Based on the above true story, Canadian Director Larysa Kondracki, made a film starring Rachel Weisz, Venessa Redgrave and Monica Bellucci.  A prominent role of Taya, one of the victims,  was played by Roxana Conduarche.

The film was first offered to Rachel Weisz in 2005 when she was pregnant, but then in 2009, she did the role. Kondracki worked for 8 years to come the film into light.

Anyone who wants to know, what a one-man-army looks like in real life, must watch the film. Regarding the making of the film, some critics found out that language consultancy was below average, but above all, I personally appreciate what Kondracki did for eight years. Imdb rating is average, But I gave it 10 out of 10. Happy Watching.

Advertisements

ডাকসু নিয়া দুইটা কথা

গণতন্ত্রায়নের কথা বললে অনেক সুশীল আছেন যারা বলেন ‘আমরাও ডাকসু চাই কিন্তু…….’ এই বলে একটা লেজ লাগায় দেন, যাতে আপনার মনে হবে ডাকসু ওনারাও চান, এবং তাদের পন্ডিতি আপনাকে এতটাই বিমোহিত করবে যে, আপনিও ভাবতে শুরু করবেন “নাহ! আসলেই ডাকসু নির্বাচনের আগেই আমাদের একটা সুদৃশ্য ভবন দরকার। ছাত্রসংগঠনগুলাতে স্বচ্ছতা দরকার। ছাত্ররাজনীতির নামে অপরাজনীতি বন্ধ করা দরকার।” এঁদের সুশীল কথাবার্তায় আপনার মনে হবে এঁরা চায় ডাকসু আসলে এনারাই চান, কিন্তু কোন ভাঙাচোরা ডাকসু চান না, বরং ডাকসু চান এমন ডাকসু যেটা হবে একদম নিখুঁত। এরা আপনারে বোঝাবে আর এখন না, আর কিছুদিন পর ডাকসু নির্বাচন হলে সেটা হবে আদর্শ সময়।

এরা নিরাপত্তার দোহাই দেবে। বলবে এখন ডাকসু হলে মারামারি হবে। আপনি কি বুঝতে পারছেন এঁদের প্রচ্ছন্ন হুমকি টা? এরা হচ্ছে বর্তমান সিস্টেমের সুবিধাভোগী। নির্বাচন হলে এদের কর্তৃত্ব হুমকির মুখে পড়ে যাবে। তাই এরাই বলপ্রয়োগ করে কর্তৃত্ব ধরে রাখতে সচেষ্ট হবে।

এদেরকে চিনে রাখা দরকার বৈকি! কারণ এরা সব সময় সিস্টেমের পক্ষে এবং সিস্টেমের সুবিধাভোগী। ডাকসু নির্বাচন যখন বাস্তব হয়ে সামনে আবির্ভূত হবে, তখন এরাই বলবে ‘আমরাও তো ডাকসু নির্বাচন চেয়েছিলাম, আমরা চাই বলেই তো এটা সম্ভব হইছে’! এদের চেতনাগত পূর্বসূরিরাই ১৯৭১ এ বলেছিল ‘আগে পাকিস্তান টা তো ধরে রাখি, তারপর গণতন্ত্র নিয়া ভাবা যাবে’।

 

images-1
সমাজ-প্রগতির প্রতীক এবং লালনভূমি নিজেই আজ থমকে দাঁড়িয়েছে। ছবি: উইকিপিডিয়া।

আরেকদল সুশীল আছেন, যারা আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে, ডাকসু হলে আসলে কোন লাভ ও নেই ক্ষতিও নেই। তাই ডাকসুর জন্য এত তেলেসমাতি বৃথা! এরা বলবে যে, আরে বাবা যাই হোক না কেন! ডাকসু থাক আর না থাক। দলের হাইকমান্ড যাকে বিবেচনা করবে তাকেই না ডাকসু তে বসানো হবে। ডাকসু হলেও তো সোহাগ-জাকির ই হবেন ডাকসুর ভিপি-জিএস!

এদের কথায় কিছুটা সত্যতা আছে! কিন্তু এরা কারা এদের পরিচয় আগে জেনে নেয়া যাক! এরা হচ্ছেন তারাই যারা মনে মনে দলের হাইকমান্ডের অনুগ্রহ প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু ব্যর্থ হওয়ায় এরা আজ সুশীল!

কে নেতৃত্বে আসবে ওটা নিয়া কথা বলার আগে কোন প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব উঠে আসছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। সোহাগ-জাকির নেতৃত্বে থাকলে কি সমস্যা? যদি তারা গণতাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আসেন তাহলে অবশ্যই তারা যাদের ভোটে নির্বাচিত হবেন, তাদের প্রতিই কৃতজ্ঞ থাকবেন। তাদের জন্য জান-প্রাণ ঢেলে দিয়ে কাজ করবেন। কারণ তারা বিচ্যুত হলে তাদেরকে নামায় দেয়ার মত নির্বাচকমন্ডলী দাঁড়িয়ে আছেন।

 

আরেক শ্রেণীর তাত্ত্বিক বলবেন যে ডাকসু নির্বাচন হলে শিবির বিশৃঙখলা তৈরির প্রয়াস পাবে। এরা আসলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মত। এরা নিজেদের ব্যর্থতাগুলা শিবিরের ধুয়া তুলে ঢাকতে চায়। এদেরকে একটা জিনিস জিজ্ঞেস করবেন শিবিরের উত্থান কবে থেকে? একটু টাইমফ্রেম টা জানতে চাইবেন। ৯০ এর পরেই বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিবিরের উত্থান হয়। যখন থেকে ছাত্র-সংসদ গুলোতে আর নির্বাচন হচ্ছে না।

কি কিছু বুঝতে পারছেন না? আসলে দম বন্ধ করা পরিবেশেই পোকামাকড়ের জন্ম হয়। ফুল ফোটার জন্য উদার-অনুকূল পরিবেশ দরকার হয়। শিবিরের মত একটা চরমপন্থি সংগঠন, যাদের কর্মীরা হলো রোবটসদৃশ, তারা বিকশিত হয় অগণতান্ত্রিক পরিবেশেই! এক-এগারোর পর ছাত্রদল কই ছিল? ছাত্রলীগ কই ছিল? তারা নিজেদের মধ্যে ঠোকাঠুকি করছে আর সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষ করছে! আর শিবির? বড় বড় অডিটোরিয়াম ভাড়া করে তারা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে গেছে!

যে কোন অগণতান্ত্রিক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিই চরমপন্থীদের ব্রিডিং গ্রাউন্ড! পাশের দেশের বর্মী বৌদ্ধ ভিক্ষু থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকালেই ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়! পাকিস্তানে বা মধ্যপ্রাচ্যে এত এত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিচরণ কেন? সেখানকার দম বন্ধ করা রাজনীতিই চরমপন্থীদের উত্থান ঘটিয়েছে! বাংলাদেশও ব্যতিক্রম না। সর্বহারা থেকে জামায়াত, সবার ই উত্থান টা গণতন্ত্রের সংকটকালীন। আমাদের মহান সংবিধানের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হবে কোন সময়গুলাতে কারা রাজনীতিতে ধর্মের আমদানি ঘটিয়েছিলেন।

আসলে ডাকসু কোন সোনার কাঠি-রূপার কাঠি না। নির্বাচন মানেই গণতন্ত্র নয়। কিন্তু নির্বাচন না হলে সমস্যাগুলা দৃশ্যমান হয় না। আইয়ুব থেকে শুরু করে এরশাদ পর্যন্ত সবাই উন্নয়নের জোয়ারেই দেশটা ভাসিয়ে দিয়েছিল! মানুষ কি সেগুলো বিশ্বাস করে নি? না করলে তারা টিকে ছিল কিভাবে? বিশ্বাস করেছিল। কারণ তখন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ছাড়া আর কিছুর আওয়াজ সাধারণ মানুষের মাঝে দৃশ্যমান ছিলনা।

গণতন্ত্র থাকলে সমস্যা গুলা ভেসে ওঠে। আজকে ক্যান্টিনে খাবারের মূল্য যথাযথ কিনা, ভর্তি ফি যথাযথ কি না, এগুলা নিয়া আলোচনা হবে ডাকসু নির্বাচনের প্রাক্কালে। যারা যত বেশি মানুষের কথা বলবে, বোঝাতে সক্ষম হবে, তারাই নেতৃত্বে আসবে। পরমতসহিষ্ণুতা নাই। ঠিক আছে! পরমতসহিষ্ণুতা র চর্চা টা কিভাবে করবেন? যদি না সবাইকে চিল্লানোর সুযোগ দেন?

রাজনীতিবিদদের অনেকেই ব্যর্থ বলে, দুর্নীতিবাজ বলে, ধোঁকাবাজ বলে গালাগালি দেন। গণতন্ত্র আসলে এদের হাতেই যদি দেশটা থাকে তাহলে তো কোন উন্নতি হবে না। এই পরিস্থিতিতে কি করা দরকার সেটা গুরু আকবর আলি খান বলে দিয়েছেন! রাজনীতি ব্যর্থ হলে আরও বেশি রাজনীতি দরকার!! রাজনীতিতে যারা আছেন তারা কুলাইতে না পারলে আরও বেশি মানুষের রাজনীতিতে আসা দরকার। এটা কখন সম্ভব? ভাল মানুষ রাজনীতিতে আসবে কখন? যখন আপনি তাকে রাজনীতিতে আসার স্পেস টা দেবেন! যখন তাকে কথা বলার একটা প্লাটফর্ম দেবেন। এরকম প্লাটফর্ম হিসেবে ডাকসুর চাইতে বড় অপশন আছে এখানে?

এখন রাজনীতিতে ওপরে উঠতে চাইলে নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়! আর ডাকসু হলে যারা রাজনীতিতে আসতে চাইবেন, তাদেরকে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে। এই দুই প্রক্রিয়ায় যে দু’জন নেতা গড়ে উঠবে, তাদের কমিটমেন্ট এর পার্থক্য বুঝতে কি সক্ষম আমরা? নাকি জনগণের প্রতি, জনমতের প্রতি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে নেতৃত্বের কমিটমেন্ট কে আমরা ভয় পাই?

পেশাদারিত্ব: ডাক্তার বনাম সাংবাদিক

অন্যান্য অনেক পেশার চাইতে ডাক্তার এবং সাংবাদিকদের পেশাদারী আচরণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভুল চিকিৎসার ফলে যেমন একজন মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে তেমনি ভুল সংবাদ পরিবেশনের ফলে লেগে যেতে পারে দাঙ্গা।

professionalism

মজার ব্যাপার হলো যুদ্ধক্ষেত্রেও এই দুই পেশার মানুষ নিরপেক্ষ বলে শ্রদ্ধা পান। অার কোন পেশার মানুষ এই সম্মান টা পান বলে আমার জানা নাই।

ডাক্তারদের পেশাদারি আচরণের মানদন্ড নির্ণয় করা কঠিন বটে। খুব সহজ কথায় তারা একাধারে হবেন সৎ, চৌকস এবং মানবতার সেবায় সদা নিবেদিত। ডাক্তারদের ছুটি বলে কিছু নেই। রোগী সামনে থাকলে তাকে এগিয়ে আসতে হবে চিকিৎসার জন্য। তা সে হাসপাতালেই হোক বা হলিডে রিসোর্টেই হোক। এবং চিকিৎসা প্রদানে তিনি থাকবেন সৎ এবং মনোযোগী। কারণ তার একটু ভুলের খেসারত হতে পারে একটা জীবন।

এবার আসি সাংবাদিকদের কথায়। সাংবাদিকদের অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ এবং সত্য তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। দেশের সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে। আইনের প্রতি থাকতে হবে শ্রদ্ধা। এবং তথ্য সংগ্রহে হতে হবে চৌকস। সাংবাদিকদের সাফল্যের একটা উদাহরণ হলো ব্যাপক প্রশ্ন ফাঁসের পর আজকের অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল।

সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করবেন, সে ব্যপারে বিশেষজ্ঞ মতামত সংগ্রহ করবেন। এবং নিরপেক্ষ ও ববসবস্তুনিষ্ঠভাবে সে তথ্য পরিবেশন করবেন। কিন্তু সাংবাদিক নিজেই যদি হয় বিশেষজ্ঞ সেখানেই ঘটে বিপত্তি।

ডাক্তার বনাম সাংবাদিক এই দ্বৈরথে শুধু ডাক্তার নয়, সাংবাদিকদেরও পেশাদারিত্বের অভাব লক্ষণীয়। ডাক্তার যদি ডিউটি টাইমে ডেটিংএ যান এ বিষয়ে নিউজ করার জন্য বিশেষজ্ঞ মতামতের দরকার নাই অবশ্যই। ডাক্তার যদি অফিস টাইমে প্র্যাকটিস করেন, এ বিষয়েও বিশেষজ্ঞ মতামতের দরকার নাই। ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তার কত টাকা কমিশন নেন এ ব্যাপারেও নিউজ ছাপানোর জন্য বিশেষজ্ঞ মতামতই যথেষ্ট।

কিন্তু ডাক্তার ভুল চিকিৎসা দিল নাকি সঠিক চিকিৎসা দিল এই ব্যাপারটা সাংবাদিক জানবেন কি করে? অবশ্যই তাকে এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ মতামত নিতে হবে। চিকিৎসা ভুল ছিল নাকি সঠিক ছিল এইটা বোঝার জন্য সাংবাদিককে চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শী এই রকম কারো কাছেই মতামত নিতে হবে। রোগী মারা গেলেই চিকিৎসা ভুল ছিল, এটা আবেগ ভিন্ন কিছু নয়। ডাক্তারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য এই আবেগ যথেষ্ট নয়।

আমাদের দেশে ‘ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু’ টাইপের সংবাদ গুলোতে কোনটাতেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কোন মতামত দেখি না। এটা পরিষ্কার ভাবে পেশাদারিত্বের লঙ্ঘন। মানুষের বিবেক ভোঁতা হলেও কারও জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেখলে বা নিউজপেপারে নিউজ দেখলে মানুষ গর্জে ওঠে। এতে দাঙ্গাও বাধতে পারে। এমনকি ডাক্তারের জীবন হতে পারে বিপন্ন।

ডাক্তার, ‍সাংবাদিক সহ সকল পেশাজীবীর পেশাদারিত্বের মানদন্ড নির্ণয় করা হোক। সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হোক। ব্যক্তিগত/পেশাগত দ্বন্দ্বের কুৎসিৎ বিস্ফোরণে কারও জীবন যাতে হুমকির মুখে না পড়ে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

 

বিঃদ্রঃ মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হবে আর  সেই কলেজ থেকে পাশ করা ডাক্তাররা হবেন ফেরেশতার মত এটা আশা করা বাতুলতা মাত্র।

বুক রিভিউ: বেতাল পঞ্চবিংশতি

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে আমরা চিনি একজন শক্তিমান লেখক, সমাজ সংস্কারক এবং শিক্ষা সংগঠক হিসেবে। তাঁর আারও অবদান হচ্ছে বাংলা গদ্যরীতি প্রচলনে তাঁর অবদান। সে হিসেবে বলতে গেলে বলতে হয় বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের সন্ধানের প্রথমদিকে যে ক’জন ক্ষণজন্মা ব্যক্তি ইংরেজি বাবুয়ানিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছিলেন বিদ্যাসাগর তাদের অন্যতম। তাঁর সম্বন্ধে অনেক গল্প প্রচলিত আছে সেগুলার কোনগুলা মিথ এবং কোনগুলা সত্য তা যাচাই করা এই অধমের পক্ষে সম্ভব হয় নি।

বেতাল পঞ্চবিংশতি বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। তিনি এটি রচনা করেন কারণ সে সময় মানসম্মত বাংলা পাঠ্যপুস্তক ছিল না। সাধুভাষায় রচিত হওয়ার কারণে এটি অনেকটাই দুর্বোধ্য। সে হিসেবে আমি নিজেও বেতাল পঞ্চবিংশতি কতটুকু বুঝতে পেরেছি সে প্রশ্ন করাই যায়। তারপরও রিভিউ লিখতে বসলাম যতটুকু বুঝতে পেরেছি তার উপর ভিত্তি করেই।

বেতাল পঞ্চবিংশতি
মৃতদেহের ভেতরে প্রবেশ করা এক বেতালের বলা গল্প নিয়েই এগিয়ে যায় বেতাল পঞ্চবিংশতির প্লট। ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

 

 

বেতাল পঞ্চবিংশতি কে আমরা অনুবাদ সাহিত্য হিসেবে বিবেচনা করি। কিন্তু এটি সরাসরি অনুবাদ নয়। এডুলাইট এর বর্ণনামতে, এটি সংস্কৃত “বেতাল পঞ্চবিংশতি” বা “বৈতাল পঁচিশি” এর আলোকে লেখা। সংস্কৃত লেখকের নাম এবং মূল গল্পের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে। তবে বিদ্যাসাগরের বেতাল পঞ্চবিংশতিতে এক বেতালের গল্প বলা আছে যে পঁচিশটি গল্প বলে।

গল্পের শুরু টা উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্যের সিংহাসনে আরোহণ নিয়ে। রাজা বিক্রমাদিত্য ঘটনাচক্রে পড়ে যান এক বেতালের পাল্লায়। বেতাল তাকে শর্ত দেয় যে পঁচিশ টা গল্প রাজাকে শুনতে হবে এবং প্রত্যেক গল্পের শেষে রাজাকে বেতালের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। বেতালের এই পঁচিশটা গল্পের কারণেই গ্রন্থের নাম হয়  “বেতাল পঞ্চবিংশতি”।

গল্পগুলো কেবলমাত্র গল্প নয়। এর প্রতিটা গল্পই আজকের প্রেক্ষাপটে আমাদেরকে কিছু মেসেজ দেয় গল্পের ছলে। এগুলো আবর্তিত হয় রাজ্য পরিচালনা, মানব-মানবীর সম্পর্কের রসায়ন, ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়ের জাতধর্ম, বিভিন্ন কূটকৌশল ইত্যাদিকে ঘিরে। সে হিসেবে বেতাল পঞ্চবিংশতি নীতিবাক্য এবং রসের এক অপূর্ব সমন্বয়।

বিক্রমাদিত্য তাঁর প্রজ্ঞা এবং ধৈর্য দিয়ে বেতালের সব গল্প শোনেন এবং তাঁর প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিয়ে তাঁর উদ্দেশ্য হাসিল করেন। যে গল্পগুলো ভালভাবে বুঝতে চাইলে এক বারে বোঝা খুব কঠিন।

বাংলা বই পড়ুন। বাঙালি সত্তাকে আরও ভালভাবে জানুন।

বুক রিভিউ: বিশ্ব রাজনীতির ১০০ বছর

বুক রিভিউ:  বিশ্ব রাজনীতির ১০০ বছর

তারেক শামসুর রেহমান

শোভা প্রকাশ (২০১০) ঢাকা

ড. তারেক শামসুর রেহমানকে মূলতঃ আমরা জানি রাজনীতির একজন বিশ্লেষক হিসেবে।তিনি যতটা না জাতীয় রাজনীতির বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত, তারচেয়ে বেশি পরিচিত আন্তর্জাতিক রাজনীতির একজন দুঁদে বিশ্লেষক হিসেবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে তাঁর পড়াশোনা প্রায় জীবনভর। এবং তাঁর অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ “বিশ্ব রাজনীতির এক শ বছর“।

বিংশ শতাব্দীতে যেসব ঘটনা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল প্রায় সবগুলোই তিনি স্পর্শ করে গেছেন। একাডেমিক বিশ্লেষণে সম্পৃক্ত করে গেছেন আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন সব ঘটনাকে। সময়ানুক্রমিক সূত্র রক্ষা করে অনেক বিচ্ছিন্ন বিন্দুকে জোড়া লাগিয়ে তিনি একটু সূত্র আবিষ্কারের চেষ্টা করে গেছেন তাঁর ক্ষুরধার বিশ্লেষণের মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে কোন ঘটনার পর কোনটা ঘটল দুটা ঘটনার মধ্যে মিলটা কোথায় এইরূপ কার্যকারণ বিশ্লেষণে বেশ নিপূণতার পরিচয় দিয়েছেন। আর কার্যকরণ সম্পর্কে তাঁর বিশ্লেষণ ও বেশ গ্রহণযোগ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্যের কারণে প্রায়ই বইটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাসহ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ইতিহাসের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি রেফারেন্স বই এর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত প্রায় এক দশকব্যাপী।

প্রথম অধ্যায়ে তিনি তাঁর বইয়ের একটি স্কেচ তৈরি করার প্রয়াস চালিয়েছেন বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত ঘটনাগুলিকে একটি সারণিতে উপস্থাপনের মাধ্যমে। বিংশ শতকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মেরুকরণ ছিল বেশ প্রকট। এক মেরুতে ছিল পুঁজিবাদ আর অন্য মেরুতে ছিল সমাজতন্ত্র। মোটাদাগে বিংশ শতাব্দীর ইতিহাস লিখতে গেলে যেটা দাঁড়ায় পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের লড়াইয়ের ইতিহাস।

সামন্তবাদের ভিত্তিভূমিতে আক্রমণ করে যখন গণতন্ত্রায়ণের পথে বিশ্বের যাত্রা শুরু হল তখনই সামন্তপ্রভুদের প্রতিস্থাপন করল অর্থ। সামন্তবাদের যুগে টাকা-পয়সা ছুটত ক্ষমতা কিংবা সামন্তপ্রভুদের দিকে। এর অবসানে অর্থই হয়ে উঠল আসল প্রভু। অর্থ যার দুনিয়া তার। নতুন এক ঈশ্বরের সন্ধান পেল পৃথিবী। আর সেটা হল অর্থ। পুঞ্জীভূত অর্থ হয়ে উঠল সকল ক্ষমতা, আরাম-আয়েশ ও বিলাসিতার উৎস। আর শিল্পায়নের জ্বালানি পেয়ে পুঁজিবাদ হয়ে উঠল এক দৈত্য।

পুঁজিবাদে বিরক্ত হয়ে চিন্তাবিদেরা সমাধান খুঁজলেন। চূড়ান্ত একটা স্কেচ আঁকলেন মার্কস ও এঙ্গেলস। তাঁদের স্কেচ ধরেই লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হল সর্বহারাদের একনায়কতন্ত্র বা শ্রমিকপ্রতিনিধিদের রাজত্ব। রাশিয়ায় সাম্যবাদ কতটুকু কার্যকর সেটা ভিন্ন আলোচনার বিষয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছড়িয়ে দিতে চাইল দেশ-দেশান্তরে, পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে।

পুঁজিবাদী বিশ্বও জাতীয়তাবাদের জাগরণে ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেল। দু-দুটো মহাযুদ্ধ পুঁজিবাদের রাজধানী স্থানান্তর করল ইউরোপ থেকে আমেরিকায়। আর পুঁজিবাদী বিশ্ব একটি সাধারণ শত্রুর অস্তিত্ব বেশ প্রবলভাবেই টের পেল। আর সেটি হল সমাজতন্ত্র। অনিবার্যভাবেই বিংশ শতাব্দীতে ঘটা প্রতিটি উল্খেযোগ্য ঘটনাতেই ছিল পুঁজিবাদ আর সমাজতন্ত্রের দ্বন্দ্বের ছাপ। এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধও এর ব্যতিক্রম নয়।

কিন্তু সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েতও আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে গেলে তার সাম্যবাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যায়। আর দেখা গেল সাম্রাজ্যবাদের নির্মম মুখচ্ছবি। আফগানিস্তানে আমরা সাম্যবাদী সোভিয়েত কে দেখি না, দেখি আগ্রাসী সোভিয়েতকে।

ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতায় বিশ্ব-নেতৃত্ব যুদ্ধ এড়ানোর রাস্তা খুঁজতে লাগল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন একটি আন্তর্জাতিক ফোরামের প্রস্তাব দিলেন। কাজও শুরু হল।কিন্তু লীগ অব নেশনস টিকল না। কারণ ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছিল। ক্ষমতার ভারসাম্যে বারবার আঘাত হানছিল অনিশ্চয়তার চপেটাঘাত। যুক্তরাষ্ট্রও স্বেচ্ছা-নির্বাসনে থেকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে ব্যস্ত।

কিন্তু আরেকটা বিশ্বযুদ্ধ অনেক অনিশ্চয়তারই অবসান ঘটাল। ঔপনিবেশিক শক্তি সব মোটামুটি ধ্বংস হয়ে গেল। শক্তিশূণ্যতা (Power Vacuum) পূরণ করল এবার আমেরিকা। বিশ্বব্যাপী সে তার সৈন্য ছড়িয়ে দিল। সমানতালে এগিয়ে এল সোভিয়েত রাশিয়া। একদিকে আমেরিকান সৈন্য অন্যদিকে রাশিয়ান সৈন্য। এই দুই সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আর তাদের দ্বন্দ্ব পৃথিবীবাসীকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে পঞ্চাশ বছর। তারপর সোভিয়েতের পতন ঘটল। ফলাফল হল মার্কিনদের একক দাপট। একমাত্র মোড়ল হয়ে উঠল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ছত্রছায়ায় সবাই মার্কিন রাইফেলের মুখে নিরাপদে বাস করতে লাগল।

এতে একটা জিনিস স্পষ্ট হয়ে উঠল, কার্যকর বিরোধীদল না থাকলে সংসদ যেমন স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে আর উগ্রপন্থীদের বিস্তার শুরু হয়, তেমনি মার্কিন স্বেচ্ছাচারিতা আর উগ্র জাতীয়তাবাদ সমান তালে বিস্ফোরিত হতে লাগল। সাথে সন্ত্রাসবাদ কিংবা উগ্রবাদের জন্ম বিশ্বব্যাপী শুরু হল। তালেবান কিংবা আল কায়েদার মত হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হল।

নিঃসঙ্গতার নীতি অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্র যেমন তার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছিল, তেমনি চীনও অর্ধশতাব্দী ধরে তার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে ব্যস্ত।

তথ্যসমৃদ্ধ এই বইয়ের একমাত্র দুর্বলতা হল ক্রস-চেক করার মত পিন-পয়েন্ট রেফারেন্স না দেয়া। তবে সহায়ক সূত্র লেখক দিয়েছেন। আর ইন্টারনেটের এই যুগে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কোন তথ্য ক্রস চেক করা কঠিন কিছু না। তাই পিন-পয়েন্ট রেফারেন্স হয়তোবা নিষ্প্রয়োজন।

বইটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আগ্রহী পাঠকের প্রাইমারী লিস্টে থাকা জরুরী।

জনতার মালিকানার গল্প

20160822_183409প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল  ইসলাম স্মরণে। স্থান: আর সি মজুমদার অডিটোরিয়াম। তারিখ: ২২ আগস্ট

এক দেশে ছিল কতিপয় সহজ সরল লোক। তাদের অনেক সম্পত্তি ছিল। পুরো দেশটাই ছিল সেই সরল মানুষদের। কিন্তু সেই সম্পত্তি দখল করে নিল ব্রিটিশরা। দখল করে সেই সহজ সরল লোকগুলা রে বানিয়ে ফেলল তাদের ভূমিদাস।আর ব্রিটিশরা বনে গেল প্রভু। এই প্রভুদের দাসত্ব করতে করতে কেটে গেল দুইশ বছর। তারপর তারা বুঝে গেল প্রভুদের ফাঁকি। তারা নিজের সম্পত্তি থেকে প্রভুদের সরে যেতে বলল। প্রভুরা যাওয়ার আগে বলে গেল, তোমরা পূর্ব পশ্চিম ভাই-ভাই। একসাথে মিলেমিশে থাকবা।

তারপর শুরু হল পশ্চিমের ভাইদের বাটপারি। তারা বুঝল যে, এদেরকে সম্পদের ম্যানেজারি দেয়া যাবে না। দিলে তো আর ঠকানো যাবেনা। তাই তারা বসালো বন্দুক। বন্দুকের নলের মুখে তারা ম্যানেজারি করল সিকি শতাব্দী। তারপর সহজ-সরল মানুষগুলা আর সহজ-সরল থাকল না। প্রথমে তারা বন্দুকের ভয়ে বেশ কিছুদিন চুপ করে থাকল। কিন্তু এর মধ্যে তাদের মাঝে হাজির হল একজন কবি। সে কবি যেনতেন কবি নন। রাজনীতির কবি।  কবির কবিতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তারাও বন্দুক হাতে নিল। তারপর তাদের সম্পত্তি তাদের হাতে ফিরে  এল।

কিন্তু এবার সম্পত্তির দেখাশোনা করবে কে? এবার তো আর কেউ বন্দুক হাতে ম্যানেজারি দাবি করার মত নেই। তারা নিজেরাই ঠিক করল তাদের ম্যানেজার। আর তারপরই শুরু হল ম্যানেজারদের ছলচাতুরি। ম্যানেজার আসে, ম্যানেজার যায়। কিন্তু মূর্খ মালিকদের ঠিকই ফাঁকি দিয়ে তারা নিজেদের আখের গোছায়। কখনো বা বন্দুকের নলের মুখে কখনো বা কথার চাতুরি দিয়ে। আবার কখনো বা রাজনীতির মারপ্যাঁচে।

একবার কেউ ম্যানেজারি পেলে আর ছাড়তে চায় না। রক্তের দাগও শুকায় না। ভাল ম্যানেজারও কপালে জোটেনা।

এটা হচ্ছে একটা দেশের গল্প। সে দেশের মানুষের গল্প। আর সে দেশের সরকারের গল্প। দেশের নাম বাংলাদেশ। জনসংখ্যায় বিশ্বের অষ্টম। তোষামোদকারীরা একে একটা শ্রেণীতে ফেলে রেখেছে। তাকে নাকি বলে  এমার্জিং টাইগার্স।

দেশের  একটা সংবিধানও আছে। সংবিধানের নাম “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান”। সংবিধানে বলা আছে যে, সে দেশের মালিক জনগণ। আর জনগণের হয়ে সরকার দেশটা পরিচালনা করবে। সরকার হল উপরে বর্ণিত ম্যানেজার রা। সংবিধানে বলা আছে যে, সরকার দেশের পরিবেশ সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু সরকার সে দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে  একটা জনবহুল জায়গায়। সরকার বলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নাকি জনগণকে সুরক্ষা দেবে। সরকারের কথায় মনে হয় ইউরেনিয়াম সরকারের তাঁবেদার।

আবার তাদের একটা বন আছে। যে বনটার কারণে দেশটাকে বিশ্বের পরিবেশবাদীরা চেনে। বনের নাম সুন্দরবন। সুন্দরবনের কাছে সরকার  একটা কয়লাবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। কয়লা পুড়বে, ধোঁয়া বের হবে। যে ধোঁয়া বাতাসে মিশলে আকাশ থেকে বৃষ্টির বদলে  এসিড পড়ে। নিন্দুকেরা বলে যে, কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জনগণের কোন লাভ হবে না। লাভ হবে কোটিপতিদের। যে কোটিপতিরা বিনিয়োগ করছে। আর জনগণ কোটিপতিদের কাছে লাখ টাকার ‍বিদ্যুৎ কোটি টাকায় কিনবে। নিন্দুকের মুখে ছাই। নিন্দুকেরা তো আর জানেনা যে, সরকার বাহাদুর একটা হুংকার ছাড়বে আর কয়লার ধোঁয়া বাতাসে না মিশে মাটিতে মিশে যাবে।

সংবিধানে কিন্তু পরিবেশ সংরক্ষণের কথা বলা আছে।

সে দেশের সংবিধানে কিন্তু বেঁচে থাকার অধিকারের কথা। আরও আছে সে দেশে একঝাঁক দক্ষ আইনপ্রয়োগকারী সদস্য। তাঁদের কাজ হচ্ছে সাদা পোশাকে সে দেশের মানুষেরকে বাড়ি থেকে বের করে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়া। সংবিধানে আছে বেঁচে থাকার অধিকারের কথা। আইনপ্রওয়োগকারী সংস্থা এই অধিকার দেয় মানুষকে। যাদেরকে তুলে নিয়ে যায় তাদেরকে চিরদিনের জন্য এই অধিকার দিয়ে দেয়। কারণ তাদের মরা মুখ আর পরিবারের বা পরিচিত কেউ দেখতে পায় না। তারা বেঁচে থাকে। পিতাহারা সন্তানের বুকে। স্বামীহারা স্ত্রীর বুকে। আজীবন।

সংবিধানেই আছে বেঁচে থাকার অধিকারের কথা।

সংবিধানেই আছে মিটিং-মিছিল এর স্বাধীনতার কথা। সেই দেশে আছে কিছু বঞ্চিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী। শিক্ষকরা খুব মহান। বেতন পায়না, তারপরও পড়ায়। তারা বেতনের কথা বললে পুলিশ তাদের জলকামান আর পেপার স্প্রে দিয়ে পাহারা দেয়। সুরক্ষা দেয়। তাদের কে আরও মহৎ করে তোলে। এতদিন তারা ছিল বেতন ছাড়া মাস্টার। এখন তারা বেতন ছাড়া নির্যাতিত শিক্ষক।

সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষার্থীরা বস্তিতে থাকে। বস্তিগুলোর নাম ছাত্রাবাস। এক বিশ্ববিদ্যালয় আছে সে দেশে। সেখানকার শিক্ষার্থীরা বড় ভাগ্যবান। তাদের বস্তিতে থাকতে হয় না। তাদের বেশ কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী আছে। এই শুভাকাঙ্ক্ষীদের কে তারা তাদের বস্তিগুলা দিয়ে দেয়। শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাদের সে দান গ্রহণ করে। তারা সেখানে শপিংমল বানায়। শিক্ষার্থীরা আরামসে শপিং করে। এসি করা শপিংমলগুলাতে।

কিন্তু সুখে থাকলে ভুতে কিলায়। অবস্থা এখন তাই। সে দেশে একটা কারাগার ছিল। কয়েদিদের কে মুক্ত বাতাস খাওয়ানো দরকার কিনা! তাই কয়েদিদের পাঠিয়ে দেয়া হয় নদীর ওপারে। নাদান শিক্ষার্থীরা এবার এক অদ্ভূত দাবি করে বসে। পড়াশোনা আর স্বাধীনতা জলাঞ্জলি দিয়ে তারা নাকি এবার কারাগারে ঢুকবে!!! কি অযৌক্তিক কথা!!! কি যে কুলাঙ্গার এরা?

যাহোক তাদের কথা আর কেউ কানে নেয় না। কিন্তু কুলাঙ্গার গুলা আরও এককাঠি সরেস। তারা রাস্তায় মিছিল বের করে। রাস্তায় চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।  এবার এগিয়ে আসেন দেশপ্রেমিক পুলিশেরা। তারা শিক্ষার্থীদের ব্যারিকেড দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা  পড়াশোনা করে কি যে শিখল! তারা ব্যারিকেডকে মনে করল বিয়েবাড়ির গেট। তারা ব্যারিকেড ভেঙ্গে  এগিয়ে গেল। অভ্যর্থনারত পুলিশ তাদেরকে লাঠিচার্জ পরিবেশন করল। লাঠিচার্জ এমন এক দামি জিনিস। এটা বেশি খাওয়া যায়না। শিক্ষার্থীরা তবু খেল। ভালই খেল। তারপর তারা ফিরে গেল। আর পুলিশও তৃপ্তির ঢেঁকুড় তুলল। লাঠিচার্জ এমন এক জিনিস যে খায় আর যে খাওয়ায় সেই  বোঝে এর মজা।

সংবিধানে নাকি মিছিল-মিটিং এর স্বাধীনতার কথা বলা আছে!

সে দেশের জনগণ বেশ অমায়িক। তারা বেশ ভাল আইন তৈরি করতে পারে। যদিও সংবিধানে বলা আছে সে দেশের পার্লামেন্ট নামক একটা ঘরের বাসিন্দা আইন তৈরি করবে। কিন্তু জনগণ নিজের তৈরি আইন মোতাবেক চলে। আর অথরিটির তৈরি আইন ভেঙে চুরমার করে। যেমন ধরেন ট্রাফিক আইন। অথরিটি বলে নির্দিষ্ট পথে চলতে হবে। কিন্তু জনতার আইন বলে ভিন্ন কথা! সুযোগ আছে তো সামনের চাক্কা আগে বাড়ো। সে ফুটপাত আর রাজপথ যাই হোক।

সে দেশে  একটা প্রথা আছে। প্রথা হল অথরিটির আইনকে যে যত বেশি বুড়ো আঙুল দেখাইতে পারে, তার প্রেস্টিজ তত বেশি। তাই সে  দেশে  আইন অমান্য করার এক প্রতিযোগিতা আছে। এই প্রতিযোগিতায় যারা এগিয়ে থাকে, তাদেরকে পথে ঘাটে, মাঠে-মঞ্চে ফুলেল শুভেচ্ছা দেয়া হয়।

সেই দেশের সংবিধানের অন্যতম আদর্শ হল গণতন্ত্র। তবে রাজ-প্রজা এখনও বিদ্যমান। তবে রাজারাও পুরুষানুক্রমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তবে তারা প্রজার ম্যানেজার হিসেবিই রাজত্ব (মন্ত্রীত্ব) বুঝে নেন। তাদের উপর প্রজাদের অাস্থা অনেক বেশি। তাই তারা খোঁজ-খবরও নেন না, ম্যানেজারি কেমন চলছে। দুই-একজন অতি-উৎসাহী মাঝে-মধ্যে খবর নেয়ার চেষ্টা করে। তাদের কে উটকো হিসেবে ধরে নেয়া হয়। কারণ যাঁরা খাঁটি প্রজা, তারা রাজার কাজকর্মে নাক গলান না। তারা রাজাদের অনুসারী। রাজাদের সাথে সাথে নিজের ও আখের গোছাতে ব্যস্তা।

আর রাজার উপর প্রজাদের এই দাপটের কারণেই সংবিধানে দেশটাকে বলা হয় প্রজাতন্ত্র।

 

14063983_10153870698452709_7376121303185182160_n
মাহমুদুল ইসলাম। ছবি: অ্যাডভোকেট মনজুর আল মতিন পিতমের ফেসবুক আইডি থেকে নেয়া।

সে দেশের সরকারদের মধ্যেও  একটা প্রতিযোগিতা আছে। প্রজাদের মত তারাও আইন অমান্য করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। সরকার বাহাদুর বলে কথা! তাই তারা সবচেয়ে বড় আইন লঙ্ঘন করেন হামেশাই। যে সরকার যত বেশি সংবিধান অমান্য করবেন সে সরকার তত বেশি ক্ষমতাবান। আর যে সরকার সংবিধান টাকে যত বেশি মোচড়ানোর ক্ষমতা রাখে সে সরকার তত বেশি সুপারপাওয়ার।

এভাবে মোচড়াতে মোচড়াতে সংবিধান কখন যে ফৌজদারি আইন হয়ে গেছে কেউ আর খেয়াল করে নাই।

নিন্দুকেরা হামেশাই প্রশ্ন করেন, সংবিধান নাড়াচাড়া করে আইন-বিভাগ আর বিচার বিচার বিভাগ। তাইলে সরকারের সাথে সাথে সংবিধান চেঞ্জ হয় ক্যামনে? নিন্দুকেরা এক ইউটোপিয়ান জগতে বাস করেন। তারা জানেন না, সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ নামে একটা অনুচ্ছেদ আছে। জানা থাকলেও তারা সেটা মানতে পারেন না। তারা খালি ঘোড়া ডিঙায় ঘাস খায়। তারা শুধু ৭৭ সাতাত্তর বলে চিল্লায়। তারা কয় ন্যায়পাল কই? খালি তার ন্যায়পালরেই খুঁজে। তারা জানেওনা যে, ন্যায়পাল হল কাজির গরু। কিতাবে আছে গোয়ালে নাই। তাই সরকার তাদের কথায় কান দেয় না।

জয় সরকার বাহাদুর!!!! জয় ঘুমন্ত জনতা। তাারা জানেনা যে, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা তাদের মৌলিক অধিকার ই নয়।

বিঃদ্রঃ এই নিন্দুকদের অন্যতম হচ্ছেন মাহমুদুল  ইসলাম। লোকে বলে তাঁর জন্ম নাকি এদেশে হওয়া ‍উচিৎ হয়নাই। তিনি জীবদ্দশায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে অপছন্দ করতেন। তবে তিনি একখান বই লিখেছেন সংবিধানের উপরে। বইয়ের নাম “কনস্টিটিউশনাল ল অব বাংলাদেশ”। তার বই নাকি এখন প্রতিদিন পড়া হয়। তার বইয়ের রেফারেন্স নাকি চূড়ান্ত অথরিটি। নিন্দুকেরা এখন তার বই সাথে নিয়ে আইন আদালত করে বেড়ান।

 

তার চেয়ে বিতার্কিক রা একদিকে অনেক গুণ এগিয়ে আছেন। অন্তত ঃ মার্জিত আচরণের দিক থেকে।

 

ধান ভানতে শিবের গীতের অবতারণা অনেকের কাছেই দুর্বোধ্য লাগছে জানি।  বলসছিলাম যে, এইসব সাজানো নাটক আর অন্যান্য হুংকারের মাঝে আজ আমরা একটা বড় ধরণের সিভিল রাইট হারাতে বসেছি। আর সেটা হল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।

আসলে যে শাসকগোষ্ঠী র নৈতিক ভিত্তি টা থাকে নড়বড়ে তারা বরাবরই মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে থাকে।  আর এখানেই থমকে থাকে প্রগতি। কিভাবে? থাক আর একদিন সময় হলেই লেখা যাবে। কন্সেপ্ট টা যাতে হারিয়ে না যায়, সে জন্যই এই ব্যবস্থা।

আমার ব্লগ: আনাড়ির পথচলা

riding-bicycle-at-night
হাঁটি  হাঁটি পা পা করে একদিন আমিও হয়ে উঠব একজন ব্ল………গার। ব্লগার হতে পয়সা লাগে?

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বর্ষে আরিফ ভাই (আইন বিভাগ, ৩৫ তম ব্যাচ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) আমাকে বললেন ব্লগ পড়তে আর পত্রিকার উপসম্পাদকীয় পড়তে। উপসম্পাদকীয় কি তা তো বুঝলাম। কিন্তু ব্লগ টা আবার কি? তারপর কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হল ব্লগার হত্যার এক তান্ডব। আজ অমুক ব্লগার খুন তো কাল তমুক ব্লগার চিঠি পেলেন। বড় ভয়ংকর জিনিস তো এই ব্লগ!

তারপর বুঝলাম, ব্লগ আসলে মতামত প্রকাশের একটা প্লাটফর্ম। একটা সময় লেখকদের মতামত প্রকাশ অনেকটা সম্পাদক-প্রকাশকদের মর্জির উপর নির্ভর করত। তারা আপনা্র লেখা চাইলে প্রকাশ করতে পারেন। আবার নাও পারেন। কিন্তু এখানে ব্যাপারটা ভিন্ন। এখানে টেকনোলজির সহায়তায় আপনি নিজেই তিনটা ভুমিকা পালন করতে পারছেন। লেখক, সম্পাদক, প্রকাশক সব। সো এখন আপনার আওয়াজ অন্যের কাছে পৌঁছানোর জন্য আর সম্পাদক-প্রকাশকের হাতে থাকা মাইকের প্রয়োজন হচ্ছে না। সো, এখানে লেখার সময় আপনাকে কারও মনোরঞ্জনের চিন্তা করতে হচ্ছে না। আপনি  সানন্দে  যা ইচ্ছা লিখতে পারেন। দারুণ জিনিসতো এই ব্লগ!

দুম করে খুলেই ফেললাম একটা ব্লগ। আনাড়ির হাতে যা হয় আর কি? কিছুই হলনা। আবার কিছুদিনের মধ্যে ভুলেই গেলাম যে ওয়ার্ডপ্রেসে আমার একটা নিজস্ব ব্লগ আছে।

কোন এক ছুটির দিনে ল্যাপটপ খুলে বসলাম। মাহদী ভাই ( ৩৬ তম ব্যাচ আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এর একটা অসাধারণ ব্লগ আছে। মাহদী ভাই একজন ইন্টেলেকচুয়াল নেতা মানুষ। মানুষকে প্রভাবিত করার অসাধারণ ক্ষমতা ওনার। না হলে কি আর ঢাকা ইউনিভার্সিটি মুট কোর্ট সোসাইটি কে এত সুন্দর ভাবে নেতৃত্ব দিতে পারেন! সেটা কথা না, কথা হচ্ছে ভাই লেখেন ভাল, ঘুরাঘুরি করেন অনেক। ব্লগে ওনার ঘুরাঘুরির অনেক নিদর্শন পেলাম। উনি যে একজন পন্ডিত মানুষ তা আরও ভালভাবে জানলাম। ভাল লাগল। ভাবলাম ওনার মত তো আর হওয়া সম্ভব না।

তো ওনার মত আমাকে হতে হবে কেন? আমি তো আমার মত। তিনি শিব গড়তে গিয়ে শিবই গড়েন। আর আমি শিব গড়তে বাঁদর গড়ি। তো বাদরই সই! আমি বাঁদরই গড়ব।

গেলাম ওয়ার্ডপ্রেসে। ই-মেইল চায়। দিলাম। অ্যাক্সেপ্ট করে না। কয় কি আমার ই-মেইলে নাকি একটা ব্লগ খোলা আছে! হায় হায় কয় কি? তারপর আর কি, বুঝলাম এই কাম পৃথিবীতে একজন-ই করবার পারে। আর সেটা হল আমি নিজে। তো ভালই হল। বিয়ে করতে গিয়ে দেখি বউ আমার সাথে!

ব্যাপার না। আমার শিল্প রুচি বন্ধুমহলে বেশ প্রশ্নবিদ্ধ। তারপরও আনাড়ির মত  একটু আধটু এডিট করলাম আর কি! যা মনে হইল করলাম। শেষে দেখি আমারে কয়, আপনে  অহনও কিচ্ছু লেখেন নাই, কিছু লিখবেন নি? আমি ভাবলাম লে হালুয়া! আবার কি লিখব? তারপর নিজেরে কইলাম আরে ব্যাটা লেখবারই  যদি না পারস তাইলে ব্লগ খুলছস ক্যা ন বে?

লেখা শুরু করলাম। লিখতে লিখতে  এই দাঁড়াইল। নিন্দুকেরা বলবেন, লেখা না ছাই! কনসেপ্ট নাই, ভাষার মাধুর্য নাই, ব্যাপক গুরুচন্ডালী দোষে দুষ্ট, ইত্যাদি ইত্যাদি।

নিন্দুকের মুখে ছাই। আমার ব্লগ, আমার প্লাটফর্ম, যা খুশি লিখছি। তাতে তোমার কি হে সোনা?  ভাল লাগে নাই গিয়ে মুড়ি খাওগে যাও। কানের কাছে প্যানপ্যান শুনতে ভাল লাগেনা।

আবার ভাবি, এইরকম ডেসপ্যারেট  ছিলেন বলেই তো অভিজিৎ রায় কে বাঙালি দিনের আলোয় কোপায় মারল। যাক গে, এত চিন্তা করে কাজ নাই। রাখে আল্লাহ মারে কে? (হুম, দিনশেষে আমি একজন বাঙালিই বটে, মানে ঠেলায় পড়লে আল্লাহর নাম সবার আগে। আর হইলে খবর নাই।)

তারপরও দিন শেষে একটা কথাই ভাবতে হয়, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আর সুযোগ থাকলেই কি গালাগালি করতে হবে? যৌক্তিকতা বোঝানো কি এতই কঠিন?

অথবা ক্ষমতা থাকলেই একজন কে মেরে ফেলতে হবে? জীবন কেড়ে নেয়া খুব সহজ। কিন্তু জীবন দেয়া? পারবেন যে মানুষটাকে মেরে ফেললেন তার দেহে প্রাণের সঞ্চার করতে? কোনদিনও পারবেন না। তাই কাউকে অপমান করার আগে, কাউকে মারার আগে একবার ভাবুন। কতটা অযৌক্তিক, অমানবিক চিন্তা-চেতনার দ্বারা আমরা তাড়িত হচ্ছি!

কিছু বস্তাপচা নীতিকথা মেনে চলা আমাদের খুব দরকার।

ওয়াও! প্রায় ৬০০ শব্দের  একটা ব্লগ লিখে ফেলছি! যাক, শুরুটা নেহায়েত মন্দ না। আমার বিবেচনায় আর কি! কে কি মূল্যায়ণ করল তাতে কি আসে যায়? মনের কথা গুলো লিখব। এখানেই। আজ থাক।