আমার ব্লগ: আনাড়ির পথচলা

riding-bicycle-at-night
হাঁটি  হাঁটি পা পা করে একদিন আমিও হয়ে উঠব একজন ব্ল………গার। ব্লগার হতে পয়সা লাগে?

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বর্ষে আরিফ ভাই (আইন বিভাগ, ৩৫ তম ব্যাচ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) আমাকে বললেন ব্লগ পড়তে আর পত্রিকার উপসম্পাদকীয় পড়তে। উপসম্পাদকীয় কি তা তো বুঝলাম। কিন্তু ব্লগ টা আবার কি? তারপর কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হল ব্লগার হত্যার এক তান্ডব। আজ অমুক ব্লগার খুন তো কাল তমুক ব্লগার চিঠি পেলেন। বড় ভয়ংকর জিনিস তো এই ব্লগ!

তারপর বুঝলাম, ব্লগ আসলে মতামত প্রকাশের একটা প্লাটফর্ম। একটা সময় লেখকদের মতামত প্রকাশ অনেকটা সম্পাদক-প্রকাশকদের মর্জির উপর নির্ভর করত। তারা আপনা্র লেখা চাইলে প্রকাশ করতে পারেন। আবার নাও পারেন। কিন্তু এখানে ব্যাপারটা ভিন্ন। এখানে টেকনোলজির সহায়তায় আপনি নিজেই তিনটা ভুমিকা পালন করতে পারছেন। লেখক, সম্পাদক, প্রকাশক সব। সো এখন আপনার আওয়াজ অন্যের কাছে পৌঁছানোর জন্য আর সম্পাদক-প্রকাশকের হাতে থাকা মাইকের প্রয়োজন হচ্ছে না। সো, এখানে লেখার সময় আপনাকে কারও মনোরঞ্জনের চিন্তা করতে হচ্ছে না। আপনি  সানন্দে  যা ইচ্ছা লিখতে পারেন। দারুণ জিনিসতো এই ব্লগ!

দুম করে খুলেই ফেললাম একটা ব্লগ। আনাড়ির হাতে যা হয় আর কি? কিছুই হলনা। আবার কিছুদিনের মধ্যে ভুলেই গেলাম যে ওয়ার্ডপ্রেসে আমার একটা নিজস্ব ব্লগ আছে।

কোন এক ছুটির দিনে ল্যাপটপ খুলে বসলাম। মাহদী ভাই ( ৩৬ তম ব্যাচ আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এর একটা অসাধারণ ব্লগ আছে। মাহদী ভাই একজন ইন্টেলেকচুয়াল নেতা মানুষ। মানুষকে প্রভাবিত করার অসাধারণ ক্ষমতা ওনার। না হলে কি আর ঢাকা ইউনিভার্সিটি মুট কোর্ট সোসাইটি কে এত সুন্দর ভাবে নেতৃত্ব দিতে পারেন! সেটা কথা না, কথা হচ্ছে ভাই লেখেন ভাল, ঘুরাঘুরি করেন অনেক। ব্লগে ওনার ঘুরাঘুরির অনেক নিদর্শন পেলাম। উনি যে একজন পন্ডিত মানুষ তা আরও ভালভাবে জানলাম। ভাল লাগল। ভাবলাম ওনার মত তো আর হওয়া সম্ভব না।

তো ওনার মত আমাকে হতে হবে কেন? আমি তো আমার মত। তিনি শিব গড়তে গিয়ে শিবই গড়েন। আর আমি শিব গড়তে বাঁদর গড়ি। তো বাদরই সই! আমি বাঁদরই গড়ব।

গেলাম ওয়ার্ডপ্রেসে। ই-মেইল চায়। দিলাম। অ্যাক্সেপ্ট করে না। কয় কি আমার ই-মেইলে নাকি একটা ব্লগ খোলা আছে! হায় হায় কয় কি? তারপর আর কি, বুঝলাম এই কাম পৃথিবীতে একজন-ই করবার পারে। আর সেটা হল আমি নিজে। তো ভালই হল। বিয়ে করতে গিয়ে দেখি বউ আমার সাথে!

ব্যাপার না। আমার শিল্প রুচি বন্ধুমহলে বেশ প্রশ্নবিদ্ধ। তারপরও আনাড়ির মত  একটু আধটু এডিট করলাম আর কি! যা মনে হইল করলাম। শেষে দেখি আমারে কয়, আপনে  অহনও কিচ্ছু লেখেন নাই, কিছু লিখবেন নি? আমি ভাবলাম লে হালুয়া! আবার কি লিখব? তারপর নিজেরে কইলাম আরে ব্যাটা লেখবারই  যদি না পারস তাইলে ব্লগ খুলছস ক্যা ন বে?

লেখা শুরু করলাম। লিখতে লিখতে  এই দাঁড়াইল। নিন্দুকেরা বলবেন, লেখা না ছাই! কনসেপ্ট নাই, ভাষার মাধুর্য নাই, ব্যাপক গুরুচন্ডালী দোষে দুষ্ট, ইত্যাদি ইত্যাদি।

নিন্দুকের মুখে ছাই। আমার ব্লগ, আমার প্লাটফর্ম, যা খুশি লিখছি। তাতে তোমার কি হে সোনা?  ভাল লাগে নাই গিয়ে মুড়ি খাওগে যাও। কানের কাছে প্যানপ্যান শুনতে ভাল লাগেনা।

আবার ভাবি, এইরকম ডেসপ্যারেট  ছিলেন বলেই তো অভিজিৎ রায় কে বাঙালি দিনের আলোয় কোপায় মারল। যাক গে, এত চিন্তা করে কাজ নাই। রাখে আল্লাহ মারে কে? (হুম, দিনশেষে আমি একজন বাঙালিই বটে, মানে ঠেলায় পড়লে আল্লাহর নাম সবার আগে। আর হইলে খবর নাই।)

তারপরও দিন শেষে একটা কথাই ভাবতে হয়, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আর সুযোগ থাকলেই কি গালাগালি করতে হবে? যৌক্তিকতা বোঝানো কি এতই কঠিন?

অথবা ক্ষমতা থাকলেই একজন কে মেরে ফেলতে হবে? জীবন কেড়ে নেয়া খুব সহজ। কিন্তু জীবন দেয়া? পারবেন যে মানুষটাকে মেরে ফেললেন তার দেহে প্রাণের সঞ্চার করতে? কোনদিনও পারবেন না। তাই কাউকে অপমান করার আগে, কাউকে মারার আগে একবার ভাবুন। কতটা অযৌক্তিক, অমানবিক চিন্তা-চেতনার দ্বারা আমরা তাড়িত হচ্ছি!

কিছু বস্তাপচা নীতিকথা মেনে চলা আমাদের খুব দরকার।

ওয়াও! প্রায় ৬০০ শব্দের  একটা ব্লগ লিখে ফেলছি! যাক, শুরুটা নেহায়েত মন্দ না। আমার বিবেচনায় আর কি! কে কি মূল্যায়ণ করল তাতে কি আসে যায়? মনের কথা গুলো লিখব। এখানেই। আজ থাক।

Advertisements